Thursday, May 23, 2024
মূলপাতানেত্রকোনার সংবাদনেত্রকোনা সদর উপজেলানেত্রকোনায় হাওরের ধান কাটার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনায় হাওরের ধান কাটার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের ধান কাটার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, জেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক জানান, এ পর্যন্ত জেলার হাওর অঞ্চলে শতভাগ ধানই কাটা হয়েছে। যদিও কৃষকরা ফসলহানির শঙ্কায় এ বছর আগে ভাগেই আধা পাকা ধান কেটেছেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঁধগুলো রক্ষা করতে পেরেছি। প্রায় শেষের দিকে মাছ ধরার জন্য কেটে দেয়া বাঁধটাও মেরামত করে বেশি ক্ষতি হতে দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

তবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট করে বিল ইজারাদাররা বাঁধ কেটে ফসল ডুবিয়ে দেয়ার অভিযোগে মামলা করায় উল্টো মানববন্ধন করে মিথ্যা বলছে মামলাকে।

যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা বাদী হয়ে সরকারি ক্ষয়ক্ষতি এবং কৃষকদের ক্ষতি উল্লেখ করেছেন সেখানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান হাকিম বিক্ষোভ কার বিপক্ষে করছেন এমন প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। সেইসাথে মামলাকে ভিন্নখাতে নিতে এমন অপচেষ্টাসহ সরকারকে মিথ্যা বানানোর চেষ্টাকে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে দেখা হবে কিনা এটাও জানতে চান সাংবাদিকরা। এছাড়াও তারা ওই চেয়ারম্যানকে ভয় পান কিনা এ বিষয়েও প্রশ্ন ছুঁড়েন।

এসব প্রশ্নগুলো আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সার্বিক প্রচেষ্টায় কোন বাঁধ ভাঙেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত শতভাগ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মাছ ধরার জন্য উপজেলার জগন্নাথপুর নন্দের পেটনা যে বাঁধটি কাটা হয়েছে সেটির কারনে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। যার প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি।

মামলার বিষয়ে জেলা প্রশাসক পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকতকে এ বিষয়ে বর্তমান পিরিস্থিতি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দিলে তিনি জানান, এটি এখন পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

এছাড়াও বলেন, আমরা প্রথম যখন বাঁধে পাইপ ঢুকাতে যায় তখনও বাঁধা দিয়ে আটকে দিয়েছি। এরপর ভেঙ্গে ফেললে সেটিও রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। ঘটনাস্থলে যা দেখেছি, কৃষকদের সাথে কথা বলে দুজনের নাম এসেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান হেকিম ও রেজাউল দুজনের নাম উল্লেখ করেই মামলা দিয়েছি। মামলা আমরা উইড্রো করিনি। চলমান রয়েছে। তাদেরকে ভয় পাচ্ছিনা।

আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে জেলায় এবার প্রায় সাড়ে ৬শ কোটি টাকার ফসল রক্ষা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক। ঘণ্টাব্যাপি চলা এ সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ সংবাদ

Recent Comments