Sunday, March 3, 2024
মূলপাতানেত্রকোনার সংবাদনেত্রকোনা সদর উপজেলাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক খালেকদাদ চৌধুরীর ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সাহিত্যিক ও সাংবাদিক খালেকদাদ চৌধুরীর ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী

আগামীকাল রবিবার ১৬ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ২১ শে পদক প্রাপ্ত ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক মরহুম খালেকদাদ চৌধুরীর ৩৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯০৭ সালে খালেকদাদ চৌধুরী নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার চানগাঁও গ্রামে তার নানার বাড়ীতে জন্মগ্রহন করেন। ১৯২৪ সালে নেত্রকোনার দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক এবং ১৯২৬ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে সুনামের সাথে আইএ পাশ করেন। পরে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ইংরেজীতে অনার্সে ভর্তি হন।

১৯২২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবি বন্ধে আলী মিয়া সম্পাদিত বিকাশ পত্রিকায় তার লেখা প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের একটি স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর ১৯৪১ সালে তথ্য অফিসার হিসেবে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন। এরপর ১৯৪১ সালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকার শিশু বিভাগ সম্পাদনা করতেন। সেই সূত্রেই কাজী নজরুল ইসলামের সাথে তার ঘনিষ্টতা বৃদ্ধি পায়।

১৯৬১ সালে সরকারী চাকুরী ইস্তফা দিয়ে সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। সে সময় নেত্রকোনা থেকে ‘উত্তর আকাশ’ নামে মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বের করেন। তার সম্পাদিত বহুল আলোচিত ‘উত্তর আকাশ’ সাহিত্য পত্রিকাকে কেন্দ্র করে সে সময় নেত্রকোনায় গড়ে উঠেছিল কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের এক মিলন মেলা।

এই পত্রিকায় সাহিত্য চর্চা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন কবি হেলাল হাফিজ, নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ, জীবন চৌধুরী, শান্তিময় বিশ্বাসসহ অনেক কবি সাহিত্যিক। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি চালু ছিল। কোমলমতি শিশু কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস এবং আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেন নেত্রকোনা সাধারণ গ্রন্থাগার। সেই গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক থাকা কালে ‘সৃজনী’ নামে আরেকটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তার লেখা ও প্রকাশিত ডজন খানেক বইয়ের মধ্যে ‘রক্তাত্ত অধ্যায়’, ‘একটি আত্মার অপমৃত্যু’, ‘এ মাটি রক্তে রাঙ্গা’, এবং শতাব্দীর দুই দিগন্ত উল্লেখযোগ্য।

তিনি বিখ্যাত ‘মরু সাহারা, ‘বাহার-ই-স্তান-ই-গায়েবী’ ও ‘ওরসে কারবালা’, ‘বেদুইনের মেয়ে’ নামের অনুবাধক। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমী ১৯৮৩ সালে তাকে বাংলা একাডেমী পুরস্কারে এবং ২০১৮ সালে ২১ পদকে ভূষিত করে।

১৯৮৫ সালের ১৬ অক্টোবর এই কৃতি সাহিত্যিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ধক্য জনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সৃজনশীল সাহিত্য চর্চার বিকাশ এবং কথা সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ ১৪০৩ সাল থেকে পহেলা ফাল্গুন বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসব ও খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করে আসছে। ইতিমধ্যে দেশ বরেণ্য অনেক কবি সাহিত্যিকরা এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

খালেকদাদ চৌধুরীর ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটি নেত্রকোনার উদ্যোগে সকাল ১১টায় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাদ আছর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল, সন্ধ্যা ৬টায় নেত্রকোনা সাধারণ গ্রন্থাগারে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে মোক্তারপাড়াস্থ বাসভবনে কোরান খানি, জিকির আসকার ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ সংবাদ

Recent Comments