Friday, May 8, 2026
29.8 C
Netrakona
Friday, May 8, 2026
Home কৃষি সংবাদ নেত্রকোনায় ৩১৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি, বিপাকে ৬৯ হাজার কৃষক

নেত্রকোনায় ৩১৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি, বিপাকে ৬৯ হাজার কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলসহ জেলার ১০টি উপজেলায় ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৬৯ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, যার আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা।

জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রাথমিক জরিপে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন। এর মধ্যে হাওড়াঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে।

সরকারি হিসেবে হাওড়াঞ্চলের প্রায় ৬২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা বাকি, এবং পানিতে তলিয়ে আছে প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার হেক্টর জমি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৮ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়, যার ওপর নির্ভর করে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান। এই ধান থেকেই উৎপাদন হয় প্রায় ৩ লাখ টন, যা হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সারাবছরের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন।

কৃষকদের অভিযোগ, এবারের ক্ষতির পেছনে শুধুমাত্র অতিবৃষ্টি নয়, রয়েছে আরও কিছু কাঠামোগত সমস্যা। ডিজেল সংকটের কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টার যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়নি। আবার জমিতে পানি জমে থাকায় যন্ত্র দিয়েও ধান কাটা সম্ভব হয়নি। ফলে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি তারা।

এছাড়া পূর্বের মতো বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটার প্রচলনও কমে গেছে। যন্ত্রনির্ভরতার কারণে শ্রমিক নির্ভরতা কমলেও, বাস্তবে সংকটের সময় তা বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, হাওড়ে অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাল-বিল ও পানি চলাচলের পথ পলি জমে বন্ধ হয়ে গেছে। অধিকাংশ জলকপাট (স্লুইসগেট) অকেজো থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে ফসলহানির কারণে কৃষকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ না পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here