Sunday, March 3, 2024
মূলপাতানেত্রকোনার সংবাদনেত্রকোনার পূর্বধলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রকাশ্যেই চলে ঘুষ লেনদেন

নেত্রকোনার পূর্বধলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রকাশ্যেই চলে ঘুষ লেনদেন

সোহান আহমেদ:
নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনায় চলছে নেত্রকোনার পূর্বধলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম। উপজেলা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়া ছাড়া চলেনা কোন ফাইল। দীর্ঘ দিন ধরেই কাউকে তোয়াক্কা না করে চলে আসছে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্বধলা উপজেলা প্রকৌশল সহকারী কর্মকর্তাদের আওতাধীন অন্তত অর্ধশতাধিক বিদ্যালয় ভবন সড়ক নির্মাণসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

গেল ১০বছর যাবৎ একই চেয়ারে বসে প্রায় সবগুলো কাজই তদারকি ও বিল লিখেছেন রেজাউল করিম নামে দক্ষ একজন এসও। যিনি প্রতি কাজের বিল হিসেব করেই টাকা নেন। টাকার অংকে কম হলে নানা অজুহাতেই কাজ বাস্তবায়নে ঝামেলা সৃষ্টি করে রাখেন এমন উক্তি তিনি নিজেই করছেন যার একটি অডিও/ভিডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও রয়েছে অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুষের টাকা নেয়ার ভিডিও। যিনি হঠাৎ অন্যত্র বদলি হয়ে গেলেও কয়েক মাসের ব্যাবধানে আবারো একই চেয়ারে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে এতো দ্রুত বদলির পেছনে রয়েছে (সচিব কামাল) রহস্য, এমন তথ্য প্রচলন অফিস পাড়ায়। সচিব কামাল অর্থাৎ পূর্বধলা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রজেক্ট কতৃক নিয়োগকৃত ওয়ার্ক এসিস্ট্যানের নাম। যিনি বেশ কজন সচিবের স্বজন বলে নিজেকে পরিচিত করেন উপজেলা ও অফিস পাড়ায়। সেইসাথে রেজাউল করিমকে বদলি করে পূর্বধলায় আনা ও সাবেক উপজেলা প্রকৌশলীসহ বেশকজনকে অন্যত্র বদলি করে দেয়ার পেছেনে তার হাত রয়েছে বলেও প্রচারনা রয়েছে। এই সুযোগে এসও রেজাউল করিমের পরামর্শে স্থানীয় বেশকজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়া ও চাকুরি প্রত্যাশিতদের কাছ থেকে চাকুরি দেয়ার কথা বলেও বিপুলপরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে। যদিও এমন অভিযোগ উঠার পর থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ছুটিতে রয়েছেন ওয়ার্ক এসিস্টেন (সচিবকামাল)। তবে এসও রেজাউলকরিম এ সকল অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবানের প্রাক্কালেই অফিসিয়াল কার্যক্রমের নানা বাহানায় ঠিকাদারদের দিতে হয় অগ্রিম পিসি (নগদ অর্থ)। এছাড়াও কাজ চলাকালীন প্রতিদিন অফিস খরচ/ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট খরচ বহনে বাধ্য থাকেতে হয় সংস্লিষ্টদের। গত কয়েক মাস ব্যাপী পূর্বধলা প্রকৌশল কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটি উন্নয়ন ক্ষেত্রেই এসও অর্থাৎ (সহকারী প্রকৌশলীদের দিয়েই প্রাথমিক সার্বে কিংবা ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। এতে প্রথম থেকেই উন্নয়ন কাজ কিভাবে কোন ধরনের মালামাল কত টাকা খরচ হবে তা নির্ধারণ করে দেন এসওরাই (সহকারী প্রকৌশলী)।

তাই প্রচলন রয়েছে প্রথম সার্বেতেই প্রকল্প ব্যায়ে এসও/অফিস খরচ বরাদ্দ রেখেই নির্ধারন করে প্রাক্কলন ব্যায়। প্রতিটি কাজের বিল করাতে ও কাজবাস্তবায়নে গুনতে হয় কমপক্ষে ১৫/২০শতাংশ নগদ অর্থ। আর এই অর্থ লেনদেন হয় অনেকটা ইপ্রকাশ্যে। টাকা দিতে হয় সংস্লিষ্ট দপ্তরের পিয়ন থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগনকে। বাস্তবায়নাধীন কাজ গুলোর অনুকুলে অর্থ ছাড়করাতেও গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। এমনসব নানা হয়রানি থাকলেও ব্যবসায়ীরা সম্পর্ক রাখতে (…মশাতোভাই) লেনদেন গুলো বৈধ করে নিয়েছেন। এতে সামগ্রীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণের অর্থ। কাজগুলো বাস্তবায়নে শুরুতেই ব্যায় দেখানো হচ্ছে বেশি। খরচ কমিয়ে আনতে কিছুটা হলেও নয় ছয় করতে হয় জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংস্লিষ্টরা। তবে এ ব্যাপারে অভিযোগসহ প্রমান পেলে ব্যাবস্থা নেয়ার বানী শুনিয়েছেন পূবর্ধলা উপজেলা প্রকৌশলী সাদিকুল জাহান রিদান।

এই বিভাগের আরও সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ সংবাদ

Recent Comments