Sunday, November 27, 2022
মূলপাতাঅন্যান্যনেত্রকোনায় ভূয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বই ও সরকারি ভাতাসহ করোনা ভাতা উত্তোলন

নেত্রকোনায় ভূয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বই ও সরকারি ভাতাসহ করোনা ভাতা উত্তোলন

নেত্রকোনার পূবর্ধলায় নাম সর্বস্ব ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বই, সরকারী ভাতাসহ করোনাকালীন ভাতাও উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। শুধু তাই নয় জমিদাতার ছেলেকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি বানিয়ে এক একবার এক এক রকম স্বাক্ষর জাল করে দেয়া হয়েছে শিক্ষক নিয়োগ। রয়েছে প্রশাসনের পরিদর্শন বহি। এ বিষয়ে জালিয়াতির স্বীকার ভুক্তভোগীরা এলাকাবাসীসহ লিখিত অভিযোগ করলেও দীর্ঘদিনেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গোহালাকান্দা ইউনিয়নের শুভখাই গ্রামের মৃত রজব আলীর ১৯৭৮ সালে শুভখাই এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে দেয়া ৪২ শতাংস জমিতে কোন রকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিহ্ন মাত্র নেই। ঘাস খাচ্ছে গরু। অথচ কাগজে পত্রে রয়েছে এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিবছর সরকারি বইসহ বিভিন্ন ভাতা উত্তোলনের প্রমাণ।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত ২০১৩ সাল থেকে ভূয়া কমিটি করে সভাপতির স্বাক্ষর করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করেছে। ছাত্র ছাত্রী পরিক্ষায় অংশগ্রহণ সহ পাশের হার ভালো দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করতেও আবেদন করেছে। এমনকি করোনাকালীন ভাতা উত্তোলনও করে ২০ হাজার টাকার চেক নিয়েছেন ভূয়া শিক্ষকরা।

কাগজে পত্রে উল্লেখিত বিল্ডিং টিউবওয়েল বেঞ্চসহ কিছুই নেই। জমিদাতার ছেলে ফজলুল হককে সভাপতি বানিয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন কাগজে রেজুলেশনে বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে। স্বাক্ষরেও রয়েছে ভিন্নতা। জমি দাতার ছেলেকে সভাপতি করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি করলেও সদস্যরা জানেন না কেউই। ফজলুল হক জানান আমার স্বাক্ষর আমিই জানিনা। পড়েছি মাত্র টু  পর্যন্ত। এম পাশের স্বাক্ষরও আছে। এগুলো কিভাবে দিলাম।

শ্যামগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার জানায়, তাকে ২০১৮ সনে নতুন একটি মাদ্রাসা হবে বলে শ্যামগঞ্জের কুমুদোগঞ্জ স্কলে নিয়ে একটি পরীক্ষা দেয়ায় এলাকার কয়েকজন। পরীক্ষার পর ১০০০ টাকাও দেন তারা। এও বলেন এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এটার শিক্ষার্থী সে। এতে মুন্নিও বেশ খুশি। নিজ এলাকায় পড়বে। কিন্তু অদ্যবধি আর কোন কিছু দেখেনি মুন্নি। জিগেস করলেও কিছু জানায়না।

এলাকার ওয়ার্ড আওয়মীলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন মোড়ল, আতাউর রহমান সহ বেশ কয়েকজন জানান, তারা গত কয়েকমাস আগে এমন অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তে প্রাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

শিক্ষক সেজে যারা টাকা তুলছেন তাদেরকেও জিগেস করলেও তারা উল্টোপাল্টা বলেন। অভিযুক্ত মাদ্রসার সহকারী শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল আলমের সাথে কথা বলতে। তিনি কিছু জানেন না।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম জানান, তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে নেই। এটি যা দেখছেন তাই। কোন বেতন ভাতা পান নি। এটি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল বারী করোনাকালীন ভাতার তালিকা পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমি তালিকা পাঠিয়েছি ঠিকাছে। কিন্তু পেয়েছে কিনা জানিনা।

তিনি বলেন ইউএনওর নির্দেশ আছে কথা না বলতে। ইউএনও পরিদর্শন করে এসেছেন। একটি নাম সর্বস্ব প্রতিষ্টানের কিভাবে তালিকা দেয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব মাদ্রাসাতো এতো দেখা হয় না। কাগজপত্র দেখেছি। তিনিও গত সাত বছর ধরেই একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করলেও এটির অস্তিত্বর বিষয়ে কিছু বলেন নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুমের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বিরক্তের সুরে বলেন এ বিষয়ে মাধ্যমিক কর্মকর্তা আছে সেখানে যান। আমার কাছে কি? পরিদর্শন বহির ব্যাপারে তিনি কিছু বলবেন না। কেউ এ নিয়ে অভিযোগ করতে আসেনি বলে জানান।

তবে পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ বসার পর ভূয়া প্রতিষ্ঠানের পাশে মুয়াজ্জিনের ঘর দেখিয়ে বললেন একটা স্থাপনা আছে। এলাকায় কিছুটা সমস্যা রয়েছে। অন্যান্য অনিয়ম সম্পর্কে বলেন খতিয়ে দেখছেন।

অন্যদিকে সোমবার বিকালে ইউনওর বক্তব্য আনার পরপরই জমিদাতার ছেলেকে ডেকে পাঠিয়ছেন ইউএনও। তাদেরকে চাপ দিচ্ছেন মোয়াজ্জিনের ঘরটি দেখাতে এবং ভূয়া মাদ্রাসার পক্ষে রাজি হয়ে যেতে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই হাবিবুর রহমান। তিনি আরো বলেন একজন নায়েবও এসে গেছে এরই মধ্যে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ

Recent Comments