Saturday, June 8, 2024
মূলপাতানেত্রকোনার সংবাদদূর্গাপুর উপজেলাসোমশ্বরীর বালুতে সাংবাদিককে পুতে ফেলার হুমকি মেয়রের

সোমশ্বরীর বালুতে সাংবাদিককে পুতে ফেলার হুমকি মেয়রের

পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত নেত্রকোনার দুর্গাপুরের প্রধান আকর্ষণই হচ্ছে পাহাড়ি কন্যা সোমেশ্বরী নদী। কিন্তু কোনরকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালুখেকোদের তান্ডবে বিলীন হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। হুমকিতে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। শব্দ দূষণে শিশু থেকে বৃদ্ধ বনিতা সব বয়সের মানুষ শ্রবণ সমস্যায় ভুগছে। হাজারো বোমা মেশিন ব্যবহার করে বালুর সাথে পাথরও উত্তোলন করছেন ইজারাদাররা।

পৌর শহরের ভেতর দিয়ে ভেজা বালু পরিবহনের ফলে শুকনো মওসুমেও কাঁদায় ভাসছে সড়ক। নর্দমার উপর দিয়ে চলাচল করে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিনযাপন করছেন দুর্গাপুর পৌরশহরে বসবাসরত সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীসহ দেশ বিদেশ ও বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সংবাদ প্রচার হলেও দুএকদিনের ভ্রাম্যমান আদালত ছাড়া নেয়া হয় না তেমন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা। ফলে কোনভাবেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না (ইজারাদার) ওরফে জেলায় পরিচিত বালুখেকোদের ।

দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই সিক্স সিলেন্ডার বোমা মেশিন ব্যবহারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শহররক্ষা বাঁধ। বিকট শব্দে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ। এই  থেকে রেহাই পেতে পৌরশহরে সর্বস্তরের নাগরিকরা বিভিন্ন সময় সড়ক অবরোধ করে হরতাল করলেও কোনো কাজে আসেনি। সমপ্রতি বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকায় এ নিয়ে দফায় দফায় রিপোর্ট প্রচারিত হাওয়ায় আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এসকল ইজারাদার ও বালুখেকো উপাধি পাওয়া সংশ্লিষ্টরা।

এরই জেরে স্থানীয় তরুণ উদীয়মান উপজেলার একমাত্র সাহসী সংবাদকর্মী রিফাত আহমেদ রাসেলকে ডেকে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয় বালু খেকো বর্তমান পৌর মেয়র অতীতের বালু বিডার আলাল উদ্দিন। বালুর নীচে পুতে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়। রিফাতের বাবাসহ রিফাতকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে লাঞ্চিত করে অকথ্য ভাষায়।

অথচ সাংবাদিক রিফাত এরই মধ্যে তার সংবাদ উপস্থাপনা ও সংগ্রহ করে প্রচারণায় বস্তুনিষ্ঠতা থাকায় সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন। এমনকি জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংবাদকর্মীদের কাছেও সে আস্থাভাজন সহকর্মী। দীর্ঘদিন ধরেই পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাহাড়ি কন্যা সোমেশ্বরীর পরিবেশ বিপর্যয়, পাহাড়ি জনপদ ও স্থানীয় জীবন জীবিকা নিয়ে সংবাদ প্রচার ও মতামত প্রকাশ করাই তার পেশা।

কিন্তু বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় সময় দুর্গাপুর পৌর সভার বর্তমান মেয়র আলাল উদ্দিন ওরফে বিডার আলাল রিফাতকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন। সালাম দিয়ে ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই চরম ক্ষিপ্ত ও হিংস্র সুরে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন মেয়র আলাল উদ্দিন। শুধু তাকেই নয় তার পরিবার বর্গ নাম উল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেছেন। সাথে আলালের দ্বিতীয় স্ত্রীও গালাগাল করেন। এমন একটি ৯ মিনিটের অডিও ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী ও প্রশাসনের নিকট পৌঁছেছে।

এ নিয়ে জেলায় কর্মরত সাংবাদিক নেতারা চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অচিরেই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান বিষয়টি দেখছেন। এদিকে জীবন বাঁচাতে সাংবাদিক রিফাত বাড়ি ছেড়ে চলে আসলেও বৃহস্পতিবার রাতে গিয়ে তার বাসা থেকে বাবাকে একদল মানুষ ডাকাডাকি চিৎকার চেঁচামেচি করে মেয়রের বাসায় ডেকে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী জানান প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ। রিফাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বর্তমান মেয়র আলাউদ্দিন এর সংক্ষিপ্ত জীবনীতে জানা গেছে, এক সময় তিনি ছোট খাট ড্রেজার ব্যবসায়ী থাকলেও বর্তমানে উপজেলার সবচেয়ে বড় ধন্যাঢ্য ব্যবসায়ী। শুরুর দিকে বালুরঘাট ইজারা নেন। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সরকার দলীয় প্রভাব ও স্থানীয় নিজস্ব লাঠিয়াল শ্রমিক বাহিনী লালন-পালন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে দেশের বিভিন্ন শহরসহ দেশের বাইরেও নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন।

সমপ্রতি ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া পৌর নির্বাচনে দলীয় কোনো পদে না থাকার শর্তেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক ভাবে সকলকে জিম্মি করে বিশাল প্রভাবশালী হয়ে উঠেন এই আলাল। সাংবাদিকের কার্ড ধারী আলালের বিশেষ সহচর বালু ঘাট ইজারাদার ধনেস পত্রনবিশ দেখাশোনা করেন গণমাধ্যমসহ সকল দিক।

যে কারনে তাদের সকল কর্মকান্ডে গনমাধ্যম গুলোতে কর্মরত সাংবাদিকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই (হপ্তা কিংবা মাসিক) চাঁদার বিনিময়ে সকল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকেন বা এড়িয়ে যান বলে এলাকায় বহুল প্রচলন রয়েছে। যে কারণে বালুখেকোদের এমন অনৈতিক প্রভাব থেকে কিছুতেই মুক্তি মিলছে না সাধারণ মানুষের।

এই বিভাগের আরও সংবাদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ সংবাদ

Recent Comments